বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক গাজীপুর: সাপ্তাহিক বন্ধ, টিকেট মূল্য ও ভ্রমণ তথ্য

Bangabandhu Safari Park Gazipur: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফারি পার্ক হিসেবে পরিচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর একটি অনন্য প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র। ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পার্কটি ৩৮১০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত, যা এশিয়ার বৃহত্তম সাফারি পার্কগুলির মধ্যে একটি। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর উদ্বোধনের পর থেকে এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

পার্কের সময়সূচি ও সাপ্তাহিক বন্ধ

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক সপ্তাহে ৬ দিন খোলা থাকে। পার্কের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হলো মঙ্গলবার। অন্যান্য দিনগুলিতে পার্কটি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস পার্কটি সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ থাকবে।

যমুনা ফিউচার পার্কের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন: একটি বিস্তারিত গাইড

টিকেট মূল্য

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের প্রবেশ মূল্য বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত টিকেট মূল্য নিম্নরূপ:

ক্যাটাগরি টিকেট মূল্য (টাকা)
প্রাপ্তবয়স্ক ৫০
অপ্রাপ্তবয়স্ক (১২ বছরের নিচে) ২০
ছাত্র/ছাত্রী ১০
বিদেশী পর্যটক ১০০০
শিশু (৩ বছরের নিচে) ফ্রি

অতিরিক্ত সুবিধা ও মূল্য

পার্কে প্রবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধার জন্য আলাদা মূল্য প্রদান করতে হয়:

  1. কোর সাফারি:
    • প্রাপ্তবয়স্ক: ১৫০ টাকা
    • ছাত্র/ছাত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক: ৫০ টাকা
  2. সাফারি বাস:
    • প্রাপ্তবয়স্ক: ১০০ টাকা
    • শিশু (৫ বছরের উপরে): ৫০ টাকা
  3. অন্যান্য ইভেন্ট: ২০ টাকা
  4. শিশু পার্কের বিভিন্ন রাইড: ২০-৫০ টাকা

গাড়ি পার্কিং চার্জ

গাড়ির ধরন পার্কিং চার্জ (টাকা)
বাস/কোচ/ট্রাক ৪০০
মিনিবাস/মাইক্রোবাস ২০০
গাড়ি/জীপ ১০০
অটোরিকশা ৫০
মোটরসাইকেল ২৫

পার্কের প্রধান আকর্ষণ

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ৬টি প্রধান বিভাগে বিভক্ত:

  1. কোর সাফারি
  2. সাফারি কিংডম
  3. বায়োডাইভারসিটি পার্ক
  4. এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক
  5. বঙ্গবন্ধু স্কয়ার
  6. চিলড্রেন’স পার্ক

এই বিভাগগুলিতে পর্যটকরা বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী ও পাখি দেখতে পারেন। এখানে রয়েছে ৮টি বাঘ, ৪টি সিংহ, ১৫০টি হরিণ, ৬টি মায়া হরিণ, ৬টি সাম্বার হরিণ, ১১টি গয়াল, ৩০টি জেব্রা, ২টি জিরাফ, ১২টি নীলগাই, ১৪টি ভালুক, ২০০টি টিয়া পাখি, ১১টি উটপাখি এবং ৮টি মদনটাক।

যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা থেকে গাজীপুরের বাঘের বাজার পর্যন্ত বাস ভাড়া প্রতি ব্যক্তির জন্য সাধারণ সিটে ৫০ টাকা এবং সিটিং সার্ভিসে ৮০ টাকা। বাঘের বাজার থেকে সাফারি পার্ক পর্যন্ত অটোরিকশা ভাড়া প্রতি ব্যক্তির জন্য ২০ টাকা।

গ্রুপ ভ্রমণের সুবিধা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে:

  • ৪০-১০০ জনের গ্রুপের জন্য: ৪০০ টাকা
  • ১০০ জনের বেশি গ্রুপের জন্য: ৮০০ টাকা

এই সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে।

খাবারের ব্যবস্থা

পার্কের ভিতরে বাইরের খাবার নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। পর্যটকরা “টাইগার রেস্টুরেন্ট” বা “লায়ন রেস্টুরেন্ট” থেকে খাবার কিনতে পারেন। দুপুরের খাবারের মূল্য ২২০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

ট্যুর প্যাকেজ

বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি সাফারি পার্ক ভ্রমণের জন্য প্যাকেজ অফার করে থাকে। একটি সাধারণ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • এয়ার-কন্ডিশন্ড যানবাহন (টুরিস্ট বাস)
  • অভিজ্ঞ গাইড
  • পিক-আপ ও ড্রপ সার্ভিস

প্যাকেজের ধরন অনুযায়ী মূল্য:

  • শুধু পরিবহন প্যাকেজ: ৭০০ টাকা
  • সম্পূর্ণ প্যাকেজ (নাস্তা, পানি, দুপুরের খাবার, প্রবেশ টিকেট সহ): ১২০০ টাকা
  • পুরো বাস রিজার্ভ: ১৪,০০০ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্য

  1. পার্কের সময়সূচি ও টিকেট মূল্য পরিবর্তন হতে পারে। ভ্রমণের আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
  2. পার্কে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
  3. বন্যপ্রাণীদের খাবার দেওয়া বা উত্যক্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  4. পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে প্লাস্টিক ব্যাগ বা অন্যান্য দূষণকারী পদার্থ পার্কে নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ।
  5. ফটোগ্রাফি ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পার্ক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

    IRCTC অ্যাপের সমস্যা? জেনে নিন কীভাবে বিনা ঝামেলায় ট্রেন টিকেট বুক বা বাতিল করবেন!

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক গাজীপুর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য নিদর্শন। এটি শুধু বিনোদনের কেন্দ্র নয়, বরং শিক্ষা ও গবেষণার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পার্কটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পরিকল্পিত ভাবে এই পার্ক ভ্রমণ করলে পর্যটকরা প্রকৃতির সাথে নিবিড় সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন।