সৌদি আরবের ফ্লাইট কি বন্ধ: কেন বন্ধ, কতদিন চলবে এবং যাত্রীরা এখন কী করবেন?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা। মার্চ ২০২৬-এর শুরু থেকেই সৌদি আরবের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গিয়েছে একের পর এক এয়ারলাইন্সের জন্য। কারণটা আন্তর্জাতিক — ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা জুড়ে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক পরিস্থিতি। Air India, IndiGo, Akasa Air, এমনকি Biman Bangladesh Airlines — সবাই একে একে জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মামসহ সৌদি আরবের গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন বিমানবন্দরে। অনেকে বাড়ি ফিরতে পারছেন না, অনেকে যেতেও পারছেন না। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানব — কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, কোন কোন এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে, এবং এখন যাত্রীদের ঠিক কী করা উচিত।

সৌদি আরবের ফ্লাইট বন্ধ কেন হলো — মূল কারণ

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলা চালানো হয়। এই হামলার পরেই মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি আরবও সেই প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না। ইরান সংকটের ঢেউ সরাসরি এসে পড়ল আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে।

ইরান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ

ইরানে হামলার পরপরই UAE, কুয়েত, বাহরাইন, ইসরায়েল এবং ইরাকের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। CNN জানিয়েছে, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে — বিমানবন্দর বন্ধ হয়েছে, আকাশপথ ফাঁকা হয়ে গেছে। সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ রুটে যাওয়ার জন্য অনেক ফ্লাইটকে ইরানি বা ইরাকি আকাশসীমার উপর দিয়ে যেতে হয়, সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই মূলত বিপত্তি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে এয়ারলাইন্সগুলো নিজেরাই ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ যাত্রীর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো বিমান কোম্পানি আকাশে উড়তে রাজি নয়।

নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ

Air India তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা, নিরাপদ আকাশসীমার প্রাপ্যতা এবং পরিচালনাগত সম্ভাব্যতা — সব দিক বিবেচনা করে ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু ভারতীয় এয়ারলাইন্সই নয়, বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলোও একই পথ নিয়েছে — ফ্লাইট চালু রাখার ঝুঁকি নিতে কেউই রাজি নয়।

কারণ বিবরণ
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা
আকাশসীমা বন্ধ UAE, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ
নিরাপত্তা শঙ্কা বিমানের পথে সরাসরি বিপদের আশঙ্কা
পরিচালনা অনিশ্চয়তা বিকল্প রুটে বেশি সময় ও জ্বালানি প্রয়োজন
যাত্রী সুরক্ষা নীতি এয়ারলাইন্সের নিজস্ব নিরাপত্তা বিধিমালা

কোন কোন এয়ারলাইন্স সৌদি আরবের ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে

এই সংকটে শুধু একটি দুটি নয়, একাধিক বড় এয়ারলাইন্স একসঙ্গে সৌদি আরবের ফ্লাইট বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তালিকাটা দেখলেই বোঝা যাবে পরিস্থিতি কতটা ব্যাপক। UAE, সৌদি আরব, ইসরায়েল এবং কাতার — এই চারটি গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় লাখো যাত্রীর পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে গেছে।

Air India-র ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা

Air India ৩ মার্চ ২০২৬, রাত ২৩:৫৯ IST পর্যন্ত UAE, সৌদি আরব, ইসরায়েল এবং কাতারে সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। একই সঙ্গে ইউরোপের কিছু নির্বাচিত ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছিল। তবে আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ ও ব্রিটেনের রুটে Air India স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী উড়ছে। যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ রিফান্ড বা বিনামূল্যে পুনর্নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। Air India Express ৩ মার্চ থেকে মাসকাটে ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে, কিন্তু সৌদি আরব এখনও স্থগিত তালিকায় রয়েছে।

IndiGo-র বিশেষ ত্রাণ ফ্লাইট

IndiGo ২ মার্চ পর্যন্ত আবু ধাবি, দোহা, জেদ্দা, কুয়েত এবং রিয়াদে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছিল। তবে ৩ মার্চ থেকে পরিস্থিতির উন্নতির আশায় জেদ্দা থেকে ভারতে ১০টি বিশেষ ত্রাণ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে — হায়দরাবাদ, মুম্বাই, দিল্লি এবং আহমেদাবাদে। ভারতের অসামরিক বিমান মন্ত্রণালয় (MoCA) এই ব্যবস্থার কথা নিশ্চিত করেছে এবং জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেটের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

Akasa Air-এর স্থগিতাদেশ

বাজেট ক্যারিয়ার Akasa Air-ও ৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত আবু ধাবি, দোহা, জেদ্দা, কুয়েত এবং রিয়াদে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। যাত্রীরা ৭ মার্চ পর্যন্ত বুকিং বাতিল করে সম্পূর্ণ রিফান্ড বা পুনর্নির্ধারণ করতে পারবেন।

এয়ারলাইন্স প্রভাবিত গন্তব্য স্থগিত সময়সীমা যাত্রী সুবিধা
Air India UAE, সৌদি আরব, ইসরায়েল, কাতার ৩ মার্চ ২৩:৫৯ IST পর্যন্ত রিফান্ড বা বিনামূল্যে রিশিডিউল
IndiGo আবু ধাবি, দোহা, জেদ্দা, কুয়েত, রিয়াদ ৩ মার্চ পর্যন্ত ত্রাণ ফ্লাইট পরিচালনা
Akasa Air আবু ধাবি, দোহা, জেদ্দা, কুয়েত, রিয়াদ ৩ মার্চ ২৩:৫৯ IST পর্যন্ত রিফান্ড বা রিশিডিউল
Air India Express বাহরাইন, কুয়েত, দোহা, সৌদি আরব, UAE ৩ মার্চ পর্যন্ত রিফান্ড সুবিধা
Biman Bangladesh দোহা, দুবাই, আবুধাবি স্থগিত ১ মার্চ থেকে আংশিক চালু চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো

বাংলাদেশি যাত্রীদের উপর প্রভাব

সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রবাসী শ্রমিকের গন্তব্য। লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক সেখানে কাজ করেন। এই ফ্লাইট বন্ধ পরিস্থিতিতে শুধু যাত্রাবিঘ্নিত নয়, অনেকের রুজিরোজগারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকা বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার পর্যন্ত মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

Biman Bangladesh-এর বর্তমান অবস্থান

Biman Bangladesh Airlines ১ মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে। তবে দোহা, দুবাই এবং আবুধাবিতে এখনও পরিষেবা স্থগিত রয়েছে। জেদ্দা এবং মদিনার ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে চলছে, তবে যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলাতে পারে, তাই বিমানবন্দরে রওনা দেওয়ার আগেই ফ্লাইটের বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করা জরুরি।

US-Bangla Airlines-এর পদক্ষেপ

US-Bangla Airlines প্রথমে ৫৪টি ফ্লাইট স্থগিত করেছিল। পরে সৌদি আরব ও ওমান রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করেছে। তবে পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে যেকোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। যাত্রীদের এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জানার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এয়ারলাইন্স সৌদি আরব রুট বর্তমান অবস্থা
Biman Bangladesh জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা চালু (সতর্কতার সঙ্গে)
US-Bangla সৌদি আরব ও ওমান পুনরায় চালু
Saudi Airlines বিভিন্ন রুট আংশিক চালু
Air Arabia নির্বাচিত রুট স্থগিত

সৌদি আরবের ফ্লাইট বন্ধ — আটকে পড়া যাত্রীরা কী করবেন

এই বিপর্যয়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন। আবার দেশে বসে যাঁরা সৌদি আরব যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁরাও বিমানবন্দরে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত জরুরি।

রিফান্ড ও রিশিডিউলিংয়ের সুযোগ

Air India, IndiGo এবং Akasa Air সকলেই ঘোষণা করেছে যে প্রভাবিত যাত্রীরা সম্পূর্ণ রিফান্ড পাবেন অথবা বিনামূল্যে তাঁদের ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণ করতে পারবেন। রিফান্ড বা রিশিডিউলের জন্য সরাসরি এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যোগাযোগ করুন। থার্ড-পার্টি ট্র্যাভেল এজেন্টের মাধ্যমে বুকিং করা থাকলে এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই ৭ মার্চ পর্যন্ত পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ত্রাণ ফ্লাইটের সুযোগ নিন

জেদ্দায় আটকে পড়া ভারতীয় যাত্রীদের জন্য IndiGo ৩ মার্চ ১০টি বিশেষ ত্রাণ ফ্লাইট চালু করছে। বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ ও US-Bangla এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ভারতীয় যাত্রীরা জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেটের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।

ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করুন

  • বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে অবশ্যই এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ফ্লাইট স্ট্যাটাস চেক করুন

  • FlightAware বা FlightRadar24-এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করুন

  • WhatsApp-এ Air India Express-এর AI চ্যাটবট থেকে রিয়েল-টাইম আপডেট পান

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল পেজ ফলো করুন

  • Saudia Airlines-এর নিজস্ব পোর্টালেও আপডেট পাওয়া যাচ্ছে

পরিস্থিতি করণীয়
সৌদি আরবে আটকে পড়েছেন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করুন
বাড়ি থেকে রওনা দেননি ফ্লাইট স্ট্যাটাস চেক করে তারপর বের হন
টিকেট বাতিল করতে চান এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটে বা কল সেন্টারে যোগাযোগ করুন
ট্রানজিটে আটকে গেছেন নিকটস্থ ভারতীয়/বাংলাদেশি দূতাবাসে যোগাযোগ করুন
পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছেন এয়ারলাইন্সের নির্দেশ মেনে চলুন

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কতটা বিপর্যয় ঘটেছে — বড় ছবি

শুধু সৌদি আরবের ফ্লাইট বন্ধ নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলই এই মুহূর্তে বিপর্যস্ত। ইরান সংকটের ধাক্কায় UAE, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ইসরায়েল — সব জায়গাতেই কমবেশি বিঘ্ন ঘটেছে। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা IATA পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।

বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা

ঢাকা বিমানবন্দর থেকে একাই ১০২টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ভারতের দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বড় বিমানবন্দরগুলোতেও শতাধিক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংখ্যাটা কয়েকশো ছাড়িয়ে গেছে। Euronews জানিয়েছে, Emirates ও Etihad-এর মাত্র হাতে গোনা কিছু ফ্লাইট সোমবার ছেড়েছে, বাকি সবই মাটিতে আটকে ছিল।

কোন বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

  • জেদ্দার কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • দাম্মাম বিমানবন্দর

  • দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

বিমানবন্দর অবস্থান ফ্লাইট পরিস্থিতি
কিং আবদুলআজিজ, জেদ্দা সৌদি আরব আংশিক চালু
কিং খালিদ, রিয়াদ সৌদি আরব আংশিক চালু
দাম্মাম সৌদি আরব আংশিক চালু
দুবাই আন্তর্জাতিক UAE মারাত্মক ব্যাহত
হামাদ, দোহা কাতার স্থগিত
আবুধাবি আন্তর্জাতিক UAE স্থগিত

এই পরিস্থিতি কতদিন চলতে পারে — আগামীর আভাস

এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — সৌদি আরবের ফ্লাইট বন্ধ পরিস্থিতি কি শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে, নাকি আরও দীর্ঘ টানাপোড়েন চলবে? সরাসরি উত্তর দেওয়া কঠিন, কারণ সবটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর।

স্বল্পমেয়াদী পূর্বাভাস

Air India ইতিমধ্যে ৩ মার্চ ২৩:৫৯ IST-কে তাদের অস্থায়ী বাধার শেষসীমা হিসেবে ধরে নিচ্ছে। IndiGo-ও ৩ মার্চ থেকে আংশিকভাবে চালু করার চেষ্টা করছে। তবে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আবার পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে। আকাশসীমা খোলা না হলে এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প দীর্ঘ পথে উড়তে বাধ্য হবে, যা খরচ ও সময় দুটোই বাড়িয়ে দেবে।

দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

ইরান সংকট যদি প্রলম্বিত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৯৯০-এর উপসাগরীয় যুদ্ধ বা ২০০৩-এর ইরাক যুদ্ধের সময় যেভাবে এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প রুট নিয়েছিল, এবারও সেই পথ ধরতে হতে পারে। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আর্থিক ক্ষতি হবে বিশাল।

সময়সীমা সম্ভাব্য পরিস্থিতি
৩-৫ মার্চ ২০২৬ আংশিক ফ্লাইট পুনরায় চালু
৬-১০ মার্চ ২০২৬ পরিস্থিতি উন্নতি হলে স্বাভাবিক হতে পারে
১০+ মার্চ ২০২৬ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প রুট
অনির্দিষ্টকাল রাজনৈতিক সমাধানের উপর নির্ভরশীল

যাত্রীদের বিমা ও আইনি অধিকার

অনেক যাত্রীই জানেন না যে ফ্লাইট বাতিল হলে তাঁদের কী কী অধিকার রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু এয়ারলাইন্সের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা না করে নিজের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন থাকা দরকার।

ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের ভূমিকা

যদি আগে থেকে ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করা থাকে, তাহলে “ফ্লাইট ক্যান্সেলেশন” বা “ট্রিপ ইন্টারাপশন” ক্লজের আওতায় দাবি জানানো যেতে পারে। যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্যান্সেলেশনের ক্ষেত্রে অনেক বিমা কোম্পানি কভার দেয়। ইন্স্যুরেন্স পলিসির শর্তাবলি ভালো করে পড়ে দেখুন এবং দ্রুত ক্লেম ফাইল করুন।

DGCA বিধিমালা অনুযায়ী যাত্রীর অধিকার

ভারতের DGCA (Directorate General of Civil Aviation) বিধিমালা অনুযায়ী, এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণে ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীরা সম্পূর্ণ রিফান্ড পাওয়ার অধিকারী। বাংলাদেশেও একই ধরনের নীতি প্রযোজ্য।

  • সম্পূর্ণ টিকিট মূল্য ফেরত পাওয়ার অধিকার

  • বিকল্প ফ্লাইটে স্থানান্তরের সুযোগ

  • দীর্ঘ অপেক্ষার ক্ষেত্রে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা (নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে)

  • কোনো পেনাল্টি ছাড়া পুনর্নির্ধারণের সুযোগ

অধিকার কীভাবে দাবি করবেন
সম্পূর্ণ রিফান্ড এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট বা কল সেন্টারে
বিকল্প ফ্লাইট চেক-ইন কাউন্টারে বা অ্যাপে
বিমা দাবি ইন্স্যুরেন্স প্রোভাইডারের হেল্পলাইনে
অভিযোগ দায়ের DGCA বা CAAB-তে লিখিত অভিযোগ

ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকবেন কীভাবে

মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে সবসময় কিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত। এই ধরনের হঠাৎ সংকট যেকোনো সময় আসতে পারে — তাই আগে থেকে প্রস্তুতি থাকলে বিপদে কম পড়তে হয়।

স্মার্ট ভ্রমণ পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে বা সৌদি আরবে ভ্রমণের আগে সবসময় ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স নেওয়া উচিত। ফ্লেক্সিবল রিফান্ড পলিসির টিকিট কেনার চেষ্টা করুন, যাতে পরিস্থিতি বদলালে অতিরিক্ত খরচ না হয়। দেশের বিদেশ মন্ত্রণালয় বা দূতাবাসের ভ্রমণ সতর্কবার্তা নিয়মিত চেক করুন।

  • ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কেনা বাধ্যতামূলক করুন

  • নন-রিফান্ডেবল টিকিট এড়িয়ে চলুন

  • বিকল্প রুট ও এয়ারলাইন্স সম্পর্কে আগে থেকে জেনে রাখুন

  • গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ডিজিটাল কপি রাখুন

  • সফরে বেরোনোর আগে পরিবারকে সব তথ্য জানিয়ে যান

শেষ কথা — সৌদি আরবের ফ্লাইট বন্ধ পরিস্থিতিতে করণীয়

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ফ্লাইট বন্ধ থাকার বিষয়টা এখন লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এয়ারলাইন্সগুলো যতটা সম্ভব যাত্রীদের সুবিধামতো সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছে — রিফান্ড, রিশিডিউল এবং বিশেষ ত্রাণ ফ্লাইটের মাধ্যমে। তবে সবার আগে নিজের নিরাপত্তা — পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অযাচিত ভ্রমণ এড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ। সৌদি আরবে আটকে পড়লে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং এয়ারলাইন্সের নির্দেশনা মেনে চলুন। আর যাঁরা এখনও রওনা হননি, তাঁরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখুন এবং নিশ্চিত আপডেট পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নিন।