Think Bengal

রাফাল-সুখোই-তেজস: ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রাগারে যে মারণাস্ত্র রয়েছে তা আপনাকে অবাক করবে!

Published By: স্টাফ রিপোর্টার | Published On:
Share:

Rafale Sukhoi Tejas capabilities: ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) তার অস্ত্রাগারে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং মারণাস্ত্র সংযোজন করে চলেছে। রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই এবং তেজস যুদ্ধবিমানগুলি IAF-এর বর্তমান শক্তির মূল ভিত্তি। এই বিমানগুলি উন্নত মিসাইল, বোমা এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত যা ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।

ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান IAF-এর সর্বাধুনিক সংযোজন। এটি মিটিওর বিবিআরএএএম (Beyond Visual Range Air-to-Air Missile) দিয়ে সজ্জিত, যার পাল্লা ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি। রাফালে MICA মাল্টি-মিশন এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, SCALP দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল এবং HAMMER (Highly Agile Modular Munition Extended Range) মধ্যম পাল্লার এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইলও রয়েছে। এছাড়াও রাফালে ১৩টি ভারত-নির্দিষ্ট উন্নয়ন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে, রাডার ওয়ার্নিং রিসিভার, লো-ব্যান্ড জ্যামার এবং ইনফ্রারেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাকিং সিস্টেম।সুখোই-৩০ এমকেআই IAF-এর বহর সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান। এটি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বহন করতে পারে, যা এর আঘাত ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।
তেজস Mk1A বনাম তুরস্কের Hürjet: কে জিতবে মিশরের লাইট ফাইটার চুক্তি?

সুখোই-৩০ এমকেআই-এ R-27, R-73 এবং আস্ত্র বিবিআর এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলও রয়েছে। এছাড়াও এটি KAB-500 এবং KAB-1500 লেজার-গাইডেড বোমা বহন করতে পারে।স্বদেশী তেজস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (LCA) ভারতীয় প্রযুক্তির সাফল্যের প্রতীক। এটি ডার্বি বিবিআরএএএম, R-73 শর্ট রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল এবং পাইথন-5 ইমেজিং ইনফ্রারেড হোমিং এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল দিয়ে সজ্জিত। তেজস লেজার-গাইডেড বোমা এবং অগাইডেড বোমাও বহন করতে পারে।IAF-এর অস্ত্রাগারে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে রয়েছে S-400 ট্রায়াম্ফ বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু আক্রমণ করতে পারে। আকাশ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং স্পাইডার মিসাইল সিস্টেমও I

AF-এর বায়ু প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়িয়েছে।সম্প্রতি, IAF তার Vayu Shakti অনুশীলনে এই অস্ত্রশস্ত্রের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এই অনুশীলনে, প্রায় ৫০ টন গোলাবারুদ মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ফেলা হয়েছিল। একটি রাফাল যুদ্ধবিমান MICA মাল্টি-মিশন এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল দিয়ে একটি আকাশীয় লক্ষ্যবস্তুকে আক্রমণ করেছিল, যেখানে স্বদেশীয় তেজস LCA অন্য একটি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করেছিল।IAF-এর এই শক্তিশালী অস্ত্রাগার তার প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে, বর্তমানে IAF-এর স্কোয়াড্রন সংখ্যা ৩১টিতে নেমে এসেছে, যা তার প্রয়োজনীয় ৪২টি স্কোয়াড্রনের তুলনায় অনেক কম।

এয়ার চীফ মার্শাল ভি আর চৌধুরী বলেছেন, “যদিও আমরা প্রযুক্তি এবং যুদ্ধবিমানের গুণগত মানের দিকে নজর দিচ্ছি, তবুও সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ।”IAF তার বহর শক্তিশালী করার জন্য বিদেশী যুদ্ধবিমান খোঁজার পাশাপাশি স্বদেশীয় বিকল্পগুলিও দেখছে। ১১৪টি যুদ্ধবিমানের জন্য বৃহৎ মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (MRFA) প্রোগ্রাম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, ৮৩টি LCA তেজস Mk-1 এর অর্ডার দেওয়া হয়েছে এবং উন্নত LCA তেজস Mk-2 মডেলের জন্যও আরও অর্ডার বিবেচনা করা হচ্ছে।এয়ার মার্শাল অনিল চোপড়া (অব.) বলেছেন, “আমার মতে, IAF ২০৩৮ সালের মধ্যে ৪২টি স্কোয়াড্রনে পৌঁছাতে পারে যদি দেশ একটি সংকল্প নেয় এবং সব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে। চূড়ান্ত অবস্থায় ১৪টি স্কোয়াড্রন Su-30 MKI, দুটি করে মিরাজ 2000 এবং MiG 29, ১২টি স্কোয়াড্রন LCA ভেরিয়েন্ট, দুটি রাফাল, ছয়টি নতুন যুদ্ধবিমান, এবং চারটি অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) হতে পারে। এতে মোট ৪২টি হবে।”
ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেল, চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে তৎপর নয়া দিল্লি

IAF-এর এই শক্তিশালী অস্ত্রাগার ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে, চীন এবং পাকিস্তানের সাথে সম্ভাব্য দ্বিমুখী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে IAF-কে আরও শক্তিশালী হতে হবে। IAF-এর বর্তমান নেতৃত্ব সংখ্যার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়েছে, বিশেষ করে চীন এবং পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সম্পদের পরিপ্রেক্ষিতে।বর্তমানে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী উভয় ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত, ৩০ দিন (তীব্র) এবং ৬০ দিন (স্বাভাবিক) হারে। তবে, IAF-এর বর্তমান বহর শক্তি এবং প্রয়োজনীয় স্কোয়াড্রন সংখ্যার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। IAF-এর প্রয়োজনীয় অনুমোদিত শক্তি ৪২টি স্কোয়াড্রন, কিন্তু ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্কোয়াড্রন সংখ্যা কেবল ৩৫-৩৬টিতে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

IAF-এর এই শক্তিশালী অস্ত্রাগার ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় IAF-কে আরও শক্তিশালী হতে হবে। নতুন প্রযুক্তি এবং যুদ্ধবিমান সংযোজনের পাশাপাশি বিদ্যমান প্ল্যাটফর্মগুলির আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। এভাবেই IAF ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম হবে।

স্টাফ রিপোর্টার

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম

আরও পড়ুন

Motorola Razr Fold Snapdragon 8 Gen 5: ফোল্ডেবল ফোনের নতুন রাজা এসে গেছে! UPSC CAPF AC Recruitment 2026 নোটিফিকেশন প্রকাশ — ৩৪৯ পদে আবেদন করুন এখনই! Nothing Phone 4a Series 2026 — দাম, স্পেসিফিকেশন ও সব লেটেস্ট আপডেট এক জায়গায় রিলায়েন্স জিও ভারতে জিপিএস সহ JioEyeQ Dashcam চালু করেছে Xiaomi Pad 8 স্পেসিফিকেশন, দাম ও সম্পূর্ণ রিভিউ — জানুন সব বিবরণ